728x90 AdSpace

সর্বশেষ পোস্ট
Monday, April 18, 2022

রোজায় বিরত থাকতে হবে মিথ্যা বলা থেকে

 


মিথ্যাকে সকল পাপের জননী বলা হয়। কারণ একটি মিথ্যা থেকে শতশত পাপের সূত্রপাত হয়। আর তাই খুব সাধারণ বিষয়েও মিথ্যা কথা বলা উচিত নয়। শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই মিথ্যাকে ঘৃণা করা হয় না। সব মানুষ মিথ্যাকে ঘৃণা করে। এমনকি যারা কোনো ধর্ম মানে না, তারাও মিথ্যাকে ঘৃণা করে। তাই অন্য সময় তো বটেই, পবিত্র রমজান মাসে এই বিষয়ে আমাদেরকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ রোজা রেখে মিথ্যা বলা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্যতম দাবি। শরিয়াতে রোজাদারের মিথ্যা কথা বলার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বুখারি শরীফে নবী করীম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহার ত্যাগ করার (রোজা রাখায় আল্লাহর) কোনো প্রয়োজন নেই। এই হাদীসের মাধ্যমে রমজানে মিথ্যা কথা বলা কতটা ভয়াবহ তা খুব সহজে অনুধাবন করা যায়।

পবিত্র মাহে রমজানের আদব যথাযথভাবে পালন করতে এ সম্পর্কিত মাসায়েল গুলো জানতে হবে। যাতে সারাদিন কষ্ট করে রোজা পালনের পরও, ছোট কোন বিষয়ের কারণে রোজা নষ্ট না হয়ে যায়। রোজার উদ্দেশ্য ব্যর্থ না হয়। নবী করীম (সা.) আরও বলেন, কিছু সংখ্যক রোজাদার আছে, যাদের রোজা তৃষ্ণা ব্যতীত আর কিছু লাভ হয় না। (রোজা অবস্থায় গুনাহের কাজ করে)। আর এমন কতিপয় নৈশ নামাজি জাগরণকারী আছে, যাদের নামাজ দ্বারা রাত জাগরণ ব্যতীত আর কিছুই নসিব হয় না (যে তার রাত্রীকালীন নামাজ সম্পর্কে মানুষকে জানায়)।

মিথ্যাবাদীকে মহান রাব্বুল আলামীন প্রচণ্ড ঘৃণা করেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মিথ্যুক এবং মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে অসংখ্যবার বলা হয়েছে। সূরা বনি ইসরাইল ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কর না। তিরমিজি শরীফের ১৯৭২ নং হাদীসে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন, মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।

মিথ্যাবাদীদের বিষয়ে সূরা তওবা’য় বলা হয়, সুতরাং পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে নিফাক (দ্বিমুখিতা) রেখে দিলেন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তারা আল্লাহকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল তার কারণে। আমরা প্রতিনিয়ত হিংসাপরায়ণ, মন্দ ধারণা, বিদ্বেষী মনোভাব থেকে শুরু করে বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে অসংখ্য মিথ্যা বলে ফেলি। কিন্তু আমাদের ভাবা উচিত মহান রাব্বুল আলামীন মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন এবং এদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।

বেহেশতের মোট আটটি দরজা আছে তাঁর মধ্যে একটি দরজার নাম হলো র্যায়ন। আর ওই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদার বেহেশতে প্রবেশ করবেন। জানা যায়, বনি আদমের প্রত্যেকটি নেক আমলের সওয়াব ১০ হতে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। কিন্তু শুধু রোজার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। কেননা এটা বান্দা একমাত্র মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য পালন করে থাকে। আর আল্লাহপাক নিজেই এর পুরস্কার দিবেন বলে ঘোষণা করেছেন। আর এতে করে রোজার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। পবিত্র রমজান মাসে আমরা অনেক কষ্ট করে রোজা রাখি, কিন্তু শুধু মিথ্যা বলা এবং কাজ ত্যাগ না করতে পারলে আমাদের সকল কষ্ট নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের সিয়াম হবে না, সিয়ামের মূল মর্ম হারিয়ে যাবে।

তাই আসুন, পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করে মিথ্যাচার পরিহারসহ নিজের মধ্যে সকল শুদ্ধাচারের কাজ শুরু করি। আর এই রমজান থেকে ইসলামের আলোকে, মহান রাব্বুল আলামীন ও নবী করীম (সা.) এর নির্দেশিত পথে জীবন গড়ে তুলি।

নয়া শতাব্দী

  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Item Reviewed: রোজায় বিরত থাকতে হবে মিথ্যা বলা থেকে Rating: 5 Reviewed By: MASUM MIA